২০ অক্টোবর ২০২৬, মঙ্গলবার, ০৫:৩৯:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
স্বপ্নের নারীর জন্য সব সম্পত্তি বিক্রি, দেখা করতে গিয়ে জানলেন এ^আই
  • আপডেট করা হয়েছে : ১৯-১০-২০২৬
স্বপ্নের নারীর জন্য সব সম্পত্তি বিক্রি, দেখা করতে গিয়ে জানলেন এ^আই

ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মারানহাওয়ের বাসিন্দা এদিমার মার্টিনস। ৪৯ বছর বয়সি মার্টিনস পেশায় রাজমিস্ত্রি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে কয়েক বছর আগে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন মার্টিনস । তার সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব সম্পত্তি বিক্রি করে ১ হাজার ৯৩১ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে দেখা করতে যান।


কিন্তু সেখানে গিয়ে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে মার্টিনসের। যে নারীর সঙ্গে তিনি দেখা করতে এসেছিলেন, প্রকৃতপক্ষে তার কোনো অস্তিত্বই নেই। ওই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। 


এদিমার স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যম টিভি মিরান্তেকে জানান, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জেসিকা অলিভেইরা নামের এক নারীর অ্যাকাউন্ট খুঁজে পান। লক্ষাধিক অনুসারী থাকা ওই অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একজন নারী খামারে অত্যন্ত মনোরম গ্রামীণ জীবনযাপন করছেন। সেখানে তিনি পুরুষদের তার সঙ্গে থাকার আমন্ত্রণ জানাতেন এবং তাদের থাকার জায়গা ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিতেন। 


মায়ের মৃত্যুর পর একাকীত্বে ভোগা মার্টিনস ভেবেছিলেন, এই নারী হয়তো তাকে নতুন জীবন শুরু করতে সাহায্য করতে পারবেন। অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা একটি ভিডিওতে ওই চরিত্রটি তাকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার এবং নিজের খামারে থাকার জায়গা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল।





জীবনসঙ্গিনী খুঁজে পাওয়ার দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে মার্টিনস তার সঙ্গে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর তিনি নিজের সব জিনিসপত্র বিক্রি করে সেই অর্থ দিয়ে ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মিনাস জেরাইসের রাজধানী বেলো হোরিজন্তে যাওয়ার যাত্রা শুরু করেন। বাসে এক দিনেরও বেশি সময় ভ্রমণের পর ১১ অক্টোবর তিনি সেই শহরে পৌঁছান।


তবে ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার আশা দ্রুতই ভেঙে যায়। মার্টিনস তার কাছে থাকা ছবিগুলো নিয়ে শহরের মানুষের কাছে জানতে চান যে তারা ওই নারীকে চেনে কি না, কিন্তু কেউই তাকে শনাক্ত করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি স্থানীয় রেডিও স্টেশনে যোগাযোগ করেন। সেখানে তাকে জানানো হয়, ওই নারীর কোনো অস্তিত্ব নেই এবং অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ ভুয়া। মার্টিনস বুঝতে পারেন, যাকে তিনি বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সে আসলে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র।


তিনি বলেন, ‘এটি কেবল দুঃখ, হতাশা আর বিষণ্নতাই বয়ে আনে। অনেকেই হয়তো কোনো সম্পর্কের সন্ধানে ছিল, তাই আমিও এসেছিলাম।’


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওই অ্যাকাউন্টটির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তি পরে স্বীকার করেন, চরিত্রটি এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি। পাশাপাশি তিনি মার্টিনসের সঙ্গে কোনো ধরনের সরাসরি যোগাযোগের কথাও অস্বীকার করেন।


ভ্রমণের পেছনে নিজের অর্থ ব্যয় করার পর, মার্টিনস সেই শহরে অসহায় অবস্থায় আটকা পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে সাহায্য চান। সমাজকর্মীরা তাকে সহায়তা করেন; যার মধ্যে ছিল খাবার, গোসলের সুবিধা এবং শহরটি ছেড়ে যাওয়ার জন্য একটি বাসের টিকিট।


এত বড় হতাশার পরও মার্টিনস জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছেড়ে দেননি। বর্তমানে তিনি এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছেন। তিনি আবারও বেলো হোরিজন্তে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার প্রত্যাশা,  সেখানে হয়তো এমন কাউকে খুঁজে পাবেন, যার সঙ্গে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারবেন। 


মার্টিনস বলেন, ‘আমি তাকে খুঁজে পাইনি, তবে অন্য কাউকে নিশ্চয়ই খুঁজে পাব। আর সেটি সেই একই জায়গায় হবে যেখানে আমি আগে গিয়েছিলাম—আমি আবারও সেখানে যাব।’ সূত্র: এনডিটিভি




শেয়ার করুন